বিয়ের অনুষ্ঠানেই কনের বাবাকে কুপিয়ে হত্যা

দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অবনীতির দিকে যাচ্ছে। দিনদুপুরে কয়েকশ’ মানুষের সামনে রাজধানীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠানে কনের বাবাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন কনের মাও। অভিযুক্ত ঘাতক ২৩ বছর বয়সী সজীব আহমেদ রকিকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দিলু রোডে সাবেক বিজিএমইএ ভবনের পেছনে প্রিয়াংকা স্যুটিং হাউজ কমিউনিটি সেন্টারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক আবদুর রব জানান, নিহতের নাম তুলা মিয়া, বয়স ৪৫। আর অভিযুক্ত ঘাতকের নাম সজীব আহমেদ রকি। হামলার সময় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে সজীবের ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম ফিরোজা খাতুনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তুলা মিয়ার লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।

সজীব পুলিশকে জানায়, বিয়ের কনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমিকার বিয়ে সইতে না পেরে সে এই হামলা করেছে। জানা যায়, তুলা মিয়ার মেয়ে ১৮ বছর বয়সী স্বপ্না আক্তার ফাতেমার বিয়ের দিন । প্রিয়াংকা স্যুটিং হাউজ কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের সব আয়োজন চলছিল। দুপুরে প্রায় ৫ থেকে ৬শ’ অতিথি উপস্থিত হন। এ সময় হঠাৎ এই হত্যাকান্ড ঘটে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ জানান, বর ও কনের দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের কয়েকজনকে নিয়ে বিয়েটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। এ সময় সজীব হঠাৎ সেন্টারে ঢুকে হট্টগোল সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে সে কনের বাবাকে ছুরিকাঘাত করে। তাকে বাঁচাতে গেলে কনের মাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। তাদের দু’জনকে প্রথমে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তুলা মিয়ার মৃত্যু হয়। পরে ফিরোজাকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় উপস্থিত অতিথি এবং স্থানীয় জনতা ঘাতক সজীবকে গণপিটুনি দেয়। তাকেও ঢামেকে ভর্তি রাখা হয়েছে। পরে স্থানীয় কাউন্সিলর ঘটনাস্থলে এসে স্বপ্নার সঙ্গে বরের বিয়ের ব্যবস্থা করেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার আনিসুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ‘বখাটে সজীব’ নিজেকে তুলা মিয়ার মেয়ের প্রেমিক দাবি করে। মাদকের মামলায় সাজা খেটে কিছুদিন আগে ছাড়া পাওয়ার পর তুলা মিয়ার মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার কথা জানতে পারে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল দুপুরে সে ছুরি নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে ঢুকে তাকে এবং তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কোপায়। আশপাশের লোকজন সজীবকে ধরে ফেলে।

তবে সজীবের সঙ্গে কনে স্বপ্না আক্তারের আদৌ কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়। হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক রমজান আলী জানান, রকির বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায়। সে পরিবারের সঙ্গে মগবাজার বাটার গলিতে থাকে।

Facebook Comments
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: